ফাঁকা বুলিতে আমাদের স্বপ্ন শৈশব চুরি করা হয়েছে

জলবায়ুর পরিবর্তন রুখতে সারা পৃথিবীতে শিশুসহ সব শ্রেণির মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে ক’দিন আগেই পথে নামিয়েছিলেন সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গ। ১৬ বছর বয়সী গ্রেডার ডাকেই গত সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ বা জলবায়ু ধর্মঘট। যাতে পৃথিবীর সব অঞ্চলের মানুষ গ্রেটার সঙ্গে গলা মিলিয়ে স্লোগান দিয়েছে-আমাদের দ্বিতীয় কোনো পৃথিবী নেই, তাই ভবিষ্যতের স্বার্থে এখনই জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে হবে। এরই মধ্যে বিশ্বের লাখ লাখ শিশুর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠা এই কিশোরী এবার বক্তব্য দিয়েছেন জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে প্রায় ৬০ বিশ্বনেতার উপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গ্রেটা।গ্রেটা থানবার্গ বলেন, এই সবকিছুই ভুল। আমার এখানে থাকা উচিত নয়। মহাসাগরের অপর পাড়ে স্কুলে থাকার কথা ছিল আমার। অথচ ছোটদের কাছে আশা নিতে এসেছেন আপনারা সবাই। আপনাদের কী দুঃসাহস! আপনারা ফাঁকা বুলির মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নকে, আমাদের শৈশবকে চুরি করেছেন। পরিবেশ রক্ষার নামে নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েও বিশ্বনেতারা কথা রাখেননি।একই ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। তাদের তিনি সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করতে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিকে সমুন্নত রাখতে একদিনের এ সম্মেলনের আয়োজন করেন।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সোমবারের ওই সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাজির হয়েছিলেন। তবে তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে-এমন অনুন্নত দেশগুলোর জন্য জাতিসংঘের ২০০ কোটি ইউরোর তহবিল বাড়িয়ে ৪০০ কোটি ইউরো করার বিষয়ে সমর্থন করেন তিনি। যদিও জাতিসংঘের ওই সম্মেলন শেষ করেই গ্রেটা থানবার্গকে উপহাস করে টুইটারে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। জাতিসংঘে গ্রেটার দেওয়া বক্তব্যটি টুইটারে আপলোড করে তিনি লেখেন-একটি উজ্জ্বল ও দুর্দান্ত ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় তাকে অনেক সুখী মনে হচ্ছে। তাকে দেখতেও ভালো লাগছে।’ট্রাম্প বরাবরই জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টির বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কার্বন হ্রাস নীতিমালা বাতিল করেছেন। সেই সঙ্গে প্যারিস চুক্তি থেকেও নিজের দেশকে সরিয়ে নিয়েছেন।এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন ওই কিশোরী। দ্য গার্ডিয়ান ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ১০৫টি দেশের ১ হাজার ৬৫৯টি শহরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী কর্মকা-ের আশায় গ্রেটার ডাকে আন্দোলন-সমাবেশ হয়েছে। এই আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা গ্রেটা এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares