পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ

দেশে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি এবং কলকাতা হাইকমিশনকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। এ ছাড়া ভারত, মিয়ানমারের বাইরে বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছেন তিনি।গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেশের খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪৫-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজের দাম ৮৫-৯০ টাকায় উঠেছে। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন দেশে পেঁয়াজের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যার কারণে দেশটি পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ২৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করার ঘোষণা দেয়। এর পর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ী, আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; কিন্তু তা কাজে আসেনি।ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য কমানোর জন্য দিল্লি এবং কলকাতা হাইকমিশনের ইকোনমিক কাউন্সিলরকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। তিনি ভারতের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া বাণিজ্যিক চুক্তি এবং বিশ্ব বাণিজ্যিক সংস্থার নিয়ম মেনে রপ্তানি মূল্য পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন।গত সোমবার বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকে আমদানিকারকরা ভারত থেকে পেঁয়াজের ট্রাক আটকে রাখার অভিযোগ করেন। তারা জানান, যেখানে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের ৫০টি ট্রাক আসার কথা, সেখানে ১০ ট্রাক পাঠানো হয়। ভারতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সূত্র জানিয়েছে, দেশে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ২৩ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সময় নষ্ট হয়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ১৬ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজের এলসি খোলা হয়। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ লাখ ৯১ হাজার মেট্রিক টন।বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুসারে, দেশে বর্তমানে ৩ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ৬ হাজার মেট্রিক টন। হিসাব অনুযায়ী দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে ৫০ দিনের চাহিদা মিটবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ভারতে নতুন পেঁয়াজ সংগ্রহ শুরু হবে। ফলে শিগগিরই ভারত রপ্তানি মূল্য কমাবে।দেশে ৪টি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে টেকনাফ দিয়ে মিয়ানমার থেকে এবং ভোমরা, হিলি ও সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ভারত দাম বাড়ানোর পর বিকল্প বাজার হিসেবে মিয়ানমার থেকে বর্তমানে দৈনিক ২০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।এদিকে ভারতও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ প্রত্যাশা অনুযায়ী পাচ্ছেন না। এ জন্য বিকল্প বাজার হিসেবে তুরস্ক, মিসর থেকেও আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। কয়েক দিনের মধ্যে এ দুই দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ এসে পৌঁছবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares