দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও পার পাবেন না

চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর পরই জানা যায়, ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাণিজ্যের টাকা যেত সরকারের বর্তমান ও সাবেক অনেক কর্মকর্তার পকেটেও। এবার নেতাদের পাশাপাশি আইনের আওতায় আসছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও। যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অভিযান পরিচালনাকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলরা এ তথ্য জানিয়েছেন। সর্বস্তরের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এ নজরদারি শুরু হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, র‌্যাবের অভিযানে ঠিকাদার মাফিয়া জিকে শামীম, যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসতে থাকে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ক্যাসিনো, টেন্ডার, চাঁদা-বাণিজ্যের টাকার ভাগবাটোয়ারার বিষয়ে পিলে চমকানোর মতো তথ্য দিয়েছেন। তাদের জবানিতে উঠে এসেছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সাবেক ও বর্তমান পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নাম।ইতোমধ্যে তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য পুনরায় যাচাই করে দেখতে অনুসন্ধানও করা হচ্ছে। এতে যাদের নামে অপরাধ-দুর্নীতির প্রমাণ মিলছে, তাদের বিরুদ্ধেই চলছে অভিযান।দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আয় করা শীর্ষপর্যায়ের দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদেরও একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে নেমে তাদের দুর্নীতির ভয়াবহ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দল অথবা সরকারি কর্মকর্তাÑ কোনো কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।অন্যদিকে ক্যাসিনোবাণিজ্য থেকেও প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা যেত পুলিশের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার পকেটে। ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেবে একটি বিশেষ সংস্থা। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার যেসব তথ্য দিয়েছেন জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ, যেগুলোর বিপরীতে প্রমাণ জোগাড় করা হচ্ছে। সবকিছু নিয়েই মাঠে নামতে চাই আমরা।’অভিযান পরিচালনার জন্য অনুসন্ধানে নিয়োজিত সূত্র জানায়, সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে গণপূর্ত বিভাগ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা রয়েছেন। বিশেষ করে গণপূর্ত বিভাগের কয়েক কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দেখে অবাক বনে গেছেন কর্মকর্তারাও। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে যেহেতু সুর্নিদিষ্ট নীতিমালা রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে বিধি মেনে অভিযান পরিচালনার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে জিকে শামীমের সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইয়ের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল মঙ্গলবার এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়। আরও বেশ কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব তলব প্রক্রিয়াধীন।চলমান অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম আমাদের সময়কে বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। এ ক্ষেত্রে দলমত বা অন্য কোনো কিছু বিবেচনা করার সুযোগ নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares